মে-জুনের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা বাতিল

ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার মাধ্যমিক স্তরের ‘ও’ লেভেল এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। আগামী মে-জুনে এই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এই সেশনের নাম ‘সামার’।

বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্য (ইউকে) সরকার নিজ দেশের পরীক্ষা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত ব্রিটিশ কারিকুলামের উল্লিখিত সেশনের পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। তবে অক্টোবর-নভেম্বরে নির্ধারিত পরীক্ষাটি হবে। কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে চাইলে তখন অংশ নিতে পারবে।

এর আগে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের সামার সেশনের পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছিল। তবে অক্টোবর নভেম্বর সেশনের পরীক্ষাটি নেওয়া হয়েছিল। যদিও সেই পরীক্ষা বাতিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত জাতীয় কারিকুলামের গত বছরের পিইসি, জেএসসি, এইচএসসি এবং বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অতীতের দুই পরীক্ষায় (জেএসসি-এসএসসি) প্রাপ্ত গ্রেড মূল্যায়ন করে ফল দেওয়া হয়েছে। আগামী মে-জুনে এসএসসি এবং জুলাই-আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা আছে সরকারের। শুক্রবার এই দুই পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছে।

সামার সেশনের পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিয়ারসন-এডেক্সেলের বাংলাদেশ প্রধান আবদুল্লাহ লিটন। শনিবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, ব্রিটেনে শিক্ষা পরিচালনা করে যেসব শিক্ষা বোর্ড সেগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থার নাম ‘অফকল’ (ওএফকিউইউএএল)। এই সংস্থা শুধু মে-জুনে পরীক্ষা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ইউকেতে যতগুলো সরকারি বোর্ড আছে, সেগুলোর একটি পিয়ারসন-এডেক্সেল। যেহেতু যুক্তরাজ্যে আসন্ন সামার সেশনে (মে-জুন) কোনো পরীক্ষা নিচ্ছে না সরকার, তাই এই বোর্ডের অধীন বিশ্বের কোনো দেশেই ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পর্যায়ের পরীক্ষা হচ্ছে না। তবে কেউ চাইলে অক্টোবর-নভেম্বরে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। সেই পরীক্ষাটি নেওয়ার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আছে।

ইংরেজি মাধ্যম বা বিদেশি কারিকুলামে বাংলাদেশে বেশকিছু স্কুলে লেখাপড়া হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে ব্রিটিশ কারিকুলামের শিক্ষার্থীই সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে ব্রিটিশ কারিকুলামের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে দুটি সংস্থা।

এগুলো হচ্ছে অ্যাডেক্সেল এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। দুটির মধ্যে অ্যাডেক্সেলের শিক্ষার্থী তুলনামূলক বেশি। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশের কারিকুলামে কিছু স্কুল পাঠদান করে থাকে।

জানা গেছে, গত বছর সামার সেশনের পরীক্ষা বাতিলের পর ছাত্রছাত্রীদের চারটি ‘ফ্যাক্টর’ (গুণক) বিবেচনায় নিয়ে গ্রেড দেওয়া হয়েছিল। ওই পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ক্যাগ’ (সিএজি-সেন্টার অ্যাসেসড গ্রেড)। এই ফ্যাক্টরের মধ্যে আছে : স্কুলে নেওয়া ‘মক টেস্ট’-এ শিক্ষার্থী যে ফল পেয়েছিল সেটি। যেসব স্কুল এই টেস্ট নিতে পারেনি সেখানে তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল ‘ক্লাস টেস্ট’র ফল।

ক্লাস টেস্টও নিতে পারেনি যেসব স্কুল সেখানে শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষার্থীর সম্ভাব্য গ্রেড নেওয়া হয়েছে। এই তিনটির সঙ্গে বোর্ডের স্বয়ংক্রিয় আরোপিত গ্রেড যুক্ত করা হয়। অর্থাৎ স্কুলগুলো উল্লিখিত তিনটি সোর্স থেকে দেওয়া ফলকেই বোর্ড চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করেনি। ইতঃপূর্বে স্কুলগুলো থেকে পরীক্ষায় অবতীর্ণ শিক্ষার্থীদের গ্রেড প্রাপ্তির প্রবণতা আমলে নেওয়া হয়।

এ ক্ষেত্রে কোনো স্কুল থেকে তার শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে কী পরিমাণ ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ইত্যাদি গ্রেড পেয়েছে সেটা সফটওয়্যারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। সেটা স্কুল থেকে পাঠানো মূল্যায়ন ফলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

আবদুল্লাহ লিটন জানান, এ বছর ‘ট্যাগ’ (টিএজি-টিচার্স অ্যাসেসড গ্রেড) পদ্ধতিতে গ্রেড দেওয়া হবে। তবে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত ঘোষণা এখন পর্যন্ত আসেনি। এ নিয়ে বোর্ডের গবেষকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষায় বিপুলসংখ্যক প্রাইভেট পরীক্ষার্থী থাকে যারা কোনো স্কুলের শিক্ষার্থী নয়। তাই ট্যাগ পদ্ধতিতে ওইসব শিক্ষার্থীকে গ্রেড দেওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে এ নিয়ে গবেষণা চলছে। অন্যদিকে ঢাকাসহ সারা দেশে প্রায় ৫শ ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল আছে।

কিন্তু এগুলোর মধ্যে মাত্র ১১৮টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারের আইন মেনে নিবন্ধিত হয়েছে। বাকিগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা লঙ্ঘন করে চলেছে।

নাম প্রকাশ না করে ব্রিটিশ কাউন্সিলের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বেশির ভাগ ইংরেজি মাধ্যম স্কুল সরকারের রেগুলেশনে (নিয়ন্ত্রণ) না থাকায় বোর্ডকে সতর্কতার সঙ্গে আগাতে হচ্ছে। স্কুলের সরবরাহকৃত ‘মক’ বা ‘ক্লাস’ টেস্টের ফল গ্রহণের পাশাপাশি দৈবচয়ন ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে ‘যাচাই’ পদ্ধতি প্রয়োগের ঘোষণাও ছিল বিগত সামার সেশনে।

অর্থাৎ স্কুলের সরবরাহকৃত গ্রেড সঠিক কিনা তা যাচাইয়ে কিছু শিক্ষার্থীর ভাইভা নেওয়ার পদ্ধতিও ছিল।

নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন অভিভাবক যুগান্তরকে বলেন, স্কুলের হাতে গ্রেড সরবরাহের শতভাগ দায়িত্ব অর্পণ করা হলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা জিম্মি হয়ে যেতে পারেন। স্কুলগুলো অধিক অর্থ দাবি করতে পারে। এই বিষয়টি সামনে রেখে নীতিনির্ধারণে পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সামার সেশনে প্রতিবছর গড়ে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এবার এখন পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়নি।

তবে ৮ হাজারের মতো প্রার্থী আছে বলে অ্যাডেক্সেলের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ধারণা পেয়েছেন। অন্যদিকে ইউকেতে বেসরকারি শিক্ষা বোর্ড হিসেবে বিবেচিত ক্যামব্রিজ কারিকুলাম। এই কারিকুলামেও বাংলাদেশে সামার সেশনে গড়ে ৫-৬ হাজার পরীক্ষার্থী থাকে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, অ্যাডেক্সেল বা ক্যামব্রিজের সারাবিশ্বে কার্যক্রম আছে। তাদের সমস্যা তুলনামূলক বেশি। তাছাড়া যুক্তরাজ্যে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি তুলনামূলক ভয়াবহ।

তাই তারা তাদের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা বাতিল করেছে। আমরা আমাদের কোভিড পরিস্থিতির বাস্তবতা অনুযায়ী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেব।

সূত্র: যুগান্তর

Check Also

এইচএসসি সিলেবাস ২০২১ | HSC Syllabus 2021 PDF Download

এইচএসসি সিলেবাস ২০২১ শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর দীপু মনি বলেছেন, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা এইচএসসি নতুন সংক্ষিপ্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *